
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
জ্বালানি তেলের সংকট মোকাবিলা এবং পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ অপেক্ষার ভোগান্তি কমাতে সব ধরনের যানবাহনের জন্য ‘ফুয়েল কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। জ্বালানি বিভাগ ইতোমধ্যে এই কার্ড চালুর প্রাথমিক কাজ শুরু করেছে। মূলত জ্বালানির অপচয় রোধ এবং সুশৃঙ্খল বিতরণ নিশ্চিত করতেই এই আধুনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
কেন এই উদ্যোগ?
জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ কমে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। এতে তেলের চড়া মূল্য দিতে হবে আমদানিকারক দেশগুলোকে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বিশ্ববাজারের সাথে পাল্লা দিয়ে দ্রুত দাম বাড়ানো সব সময় সম্ভব হয় না। এই পরিস্থিতিতে তেলের অপচয় কমানো এবং অবৈধ মজুত রোধে ‘ফুয়েল কার্ড’ বা ‘ফ্লিট কার্ড’ হবে কার্যকর সমাধান।
কীভাবে কাজ করবে এই কার্ড?
নতুন এই পদ্ধতিতে প্রতিটি যানবাহনের জন্য একটি নির্দিষ্ট কার্ড বরাদ্দ থাকবে। এর মূল বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:
কিউআর কোড (QR Code): কার্ডে একটি বিশেষ কিউআর কোড থাকবে।
চাহিদা অনুযায়ী তেল: মোটরসাইকেল, প্রাইভেট কার, ট্রাক বা বাস—প্রতিটি যানবাহনের ধরন ও চাহিদা অনুযায়ী তেলের পরিমাণ নির্ধারণ করা থাকবে।
নির্দিষ্ট পাম্প: কিউআর কোড স্ক্যান করে নির্ধারিত পাম্প থেকে কার্ডধারী তার প্রাপ্য জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারবেন।
তবে সংশ্লিষ্ট বিভাগ জানিয়েছে, এই প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাটি দেশজুড়ে পুরোপুরি চালু করতে কিছুটা সময় লাগবে।
ফুয়েল কার্ড আসলে কী?
ফুয়েল কার্ড বা ফ্লিট কার্ড হলো পেট্রোল, ডিজেল বা অন্যান্য জ্বালানি কেনার জন্য ব্যবহৃত একটি বিশেষ পেমেন্ট কার্ড। এটি সাধারণ ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডের মতোই কাজ করে। মূলত কোম্পানি বা ব্যক্তিগত গাড়ির মালিকরা জ্বালানি খরচ নিয়ন্ত্রণ ও হিসাব রাখার জন্য এটি ব্যবহার করেন।
ফুয়েল কার্ডের মূল সুবিধাগুলো:
নগদবিহীন লেনদেন: পাম্পে টাকা নিয়ে ঝামেলার প্রয়োজন নেই, কার্ডের মাধ্যমেই পেমেন্ট করা যাবে।
খরচ নিয়ন্ত্রণ ও ট্র্যাকিং: প্রতিটি লেনদেনের রেকর্ড ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংরক্ষিত থাকবে। ফলে কতটুকু তেল নেওয়া হলো এবং কত খরচ হলো, তার সঠিক হিসাব পাওয়া যাবে।
অপচয় ও চুরি রোধ: কোটা নির্ধারিত থাকায় অতিরিক্ত তেল নেওয়ার সুযোগ থাকবে না, যা জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
সহজ পেমেন্ট: চালকরা ফিলিং স্টেশনে দ্রুত ও স্বাচ্ছন্দ্যে লেনদেন সম্পন্ন করতে পারবেন।
সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে জ্বালানি খাতে স্বচ্ছতা আসার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ভোগান্তি অনেকটাই লাঘব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আপনার মতামত লিখুন :