​🛑 সতর্কবার্তা: শিশুদের মধ্যে বাড়ছে হামের প্রকোপ! জেনে নিন বাঁচার উপায় ও করণীয়.


admin প্রকাশের সময় : মার্চ ৩০, ২০২৬, ৫:৩১ পূর্বাহ্ন /
​🛑 সতর্কবার্তা: শিশুদের মধ্যে বাড়ছে হামের প্রকোপ! জেনে নিন বাঁচার উপায় ও করণীয়.

​নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

বর্তমানে শিশুদের মধ্যে সংক্রামক ব্যাধি হাম (Measles) এর প্রকোপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এটি একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে ভাইরাসজনিত রোগ, যা প্রধানত শ্বাসতন্ত্রে আক্রমণ করে। সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে এটি শিশুর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
​আজকের প্রতিবেদনে আমরা জানাবো হাম কেন হয় এবং শিশুরোগ বিশেষজ্ঞরা শিশুর হাম হলে কী করার পরামর্শ দিচ্ছেন।

​⚠️ হাম কী এবং কেন ছড়ায়?
​হাম মূলত মরবিলি ভাইরাস নামক এক ধরনের ভাইরাসের কারণে হয়। এটি বাতাসের মাধ্যমে দ্রুত ছড়ায়। আক্রান্ত শিশুর হাঁচি বা কাশির ড্রপলেট বাতাসে অন্তত ২ ঘণ্টা পর্যন্ত ভেসে থাকতে পারে।

এর প্রধান লক্ষণগুলো হলো:
​তীব্র জ্বর (১০৩-১০৫ ডিগ্রি পর্যন্ত হতে পারে)।
​নাক দিয়ে পানি পড়া ও লালচে চোখ।
​শরীরে লালচে দানা বা র্যাশ ওঠা।

​👨‍⚕️ শিশুর হাম হলে বিশেষজ্ঞরা যা করতে বলছেন:
​শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, হামের কোনো নির্দিষ্ট অ্যান্টি-ভাইরাল চিকিৎসা নেই, তবে সঠিক যত্নে শিশু দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠে।
​১. সম্পূর্ণ বিশ্রাম ও বিচ্ছিন্নকরণ:
আক্রান্ত শিশুকে অন্তত ৭-১০ দিন অন্য শিশুদের থেকে আলাদা রাখুন। এতে সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকি কমবে।
​২. পর্যাপ্ত তরল খাবার:
জ্বরের কারণে শরীরে পানিশূন্যতা হতে পারে। তাই শিশুকে প্রচুর পানি, সুপ, ডাবের পানি বা ফলের রস খাওয়ান। শিশু বুকের দুধ খেলে তা বন্ধ করবেন না।
​৩. ভিটামিন-এ (Vitamin A) নিশ্চিত করা:
হামের জটিলতা ও অন্ধত্ব রোধে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী শিশুকে ভিটামিন-এ ক্যাপসুল খাওয়ানো অত্যন্ত জরুরি। এটি শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
​৪. জ্বর নিয়ন্ত্রণ:
জ্বর কমানোর জন্য চিকিৎসকের পরামর্শমতো শুধু প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ দিন। কখনোই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বা অ্যাসপিরিন দেবেন না।
​৫. পরিচ্ছন্নতা:
শিশুর চোখ ও মুখ কুসুম গরম পানি দিয়ে নিয়মিত পরিষ্কার করে দিন। র্যাশ বা দানাগুলোতে কোনোভাবেই চুলকানো যাবে না।

​🚨 কখন দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে?
​যদি শিশুর শ্বাসকষ্ট শুরু হয়, ঘনঘন বমি বা ডায়রিয়া হয়, অথবা শিশু অতিরিক্ত নিস্তেজ হয়ে পড়ে, তবে দেরি না করে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে যোগাযোগ করুন।

​📢 প্রতিকারের উপায়:
হাম প্রতিরোধের একমাত্র উপায় হলো সঠিক সময়ে টিকা দেওয়া। আপনার শিশুকে ইপিআই (EPI) শিডিউল অনুযায়ী ৯ মাস এবং ১৫ মাস বয়সে হাম ও রুবেলার (MR) টিকা নিশ্চিত করুন।
​সতর্ক থাকুন, আপনার সচেতনতাই পারে শিশুকে সুস্থ রাখতে।

জনস্বার্থে: Jationews.com