
শহরের ব্যস্ত মোড়ে ট্রাফিক সিগন্যালে দাঁড়িয়ে থাকা এক বৃদ্ধ দম্পতিকে দেখে পথচারীরা থমকে দাঁড়ায়। সত্তরোর্ধ্ব লোকটির হাতে একগুচ্ছ লাল গোলাপ, আর পাশে বসা তার স্ত্রীর মুখে এক অদ্ভুত প্রশান্তি। এই দৃশ্যটি প্রতিদিনের হলেও এর পেছনের গল্পটি কিন্তু একেবারেই সাধারণ নয়।
শুরুটা যেভাবে:
আজ থেকে প্রায় ৫০ বছর আগে, ঠিক এই দিনটিতেই তাদের বিয়ে হয়েছিল। জীবনের কঠিন সময়ে যখন তাদের নুন আনতে পান্তা ফুরোত, তখনো লোকটি তার স্ত্রীকে প্রতি বছর একটি করে গোলাপ উপহার দিতেন। ভালোবাসা যে কেবল দামী উপহারে থাকে না, বরং ক্ষুদ্র প্রচেষ্টায় বেঁচে থাকে, তারা তার জীবন্ত প্রমাণ।
একটি কঠিন পরীক্ষা:
গল্পের মোড় ঘোরে কয়েক বছর আগে, যখন স্ত্রী স্মৃতিভ্রম বা ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত হন। তিনি এখন আর তার স্বামীকে চিনতে পারেন না, ভুলে গেছেন তাদের ফেলে আসা সোনালী দিনগুলো। ডাক্তাররা আশা ছেড়ে দিলেও স্বামী আশা ছাড়েননি। তিনি প্রতিদিন ঠিক একই সময়ে একই জায়গায় স্ত্রীকে নিয়ে আসেন, যেখানে তাদের প্রথম দেখা হয়েছিল।
ভালোবাসার জয়:
লোকেরা তাকে জিজ্ঞেস করে, “চাচা, উনি তো আপনাকে চিনতেই পারেন না, তবে কেন প্রতিদিন এত কষ্ট করে ফুল নিয়ে আসেন?”
বৃদ্ধ মুচকি হেসে জবাব দেন, “উনি আমাকে চিনতে পারছেন না তাতে কী হয়েছে? আমি তো জানি উনি কে। আর আমার ভালোবাসা তো উনার চেনার ওপর নির্ভর করে না।”
নিষ্ঠা আর ত্যাগের এই গল্পটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, আজকের দ্রুতগতির পৃথিবীতে যেখানে সম্পর্কগুলো খুব সহজেই ভেঙে যায়, সেখানে আজও কিছু মানুষ নিঃস্বার্থভাবে ভালোবাসতে জানে। ভালোবাসার আসল মানেই হলো শেষ পর্যন্ত পাশে থাকা।

আপনার মতামত লিখুন :